খোলা আকাশ কি উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের স্থান? বিশ্ব মানবতা আজ কোথায়?

0
179

অনলাইন ডেস্কঃ একটা সম্প্রদায় কতটা অসহায় হলে এভাবে খোলা আকাশের নিচে শঙ্কা আর অবৈধ প্রবেশের হুলিয়া মাথায় নিয়ে রাত যাপন করতে পারে? তা প্রতিটি বিবেককে নাড়া দেওয়ার বিষয় আজ।

তাদের অবস্থা কতটা বিপন্ন হলে আমাদের হৃদয় তাদের জন্য কাঁদতে পারে ? কিন্তু আফসোস! এই বিশ্ব ছায়াতলে কি রোহিঙ্গাদের রাত যাপনের কোন অধিকার নেই?

বর্মী হায়েনাদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আজ প্রাণ রক্ষায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্বের আনাছে কানাছে তারা। কেউ তাদের আজ আশ্রয় দিতে চাচ্ছেনা। তারা যেন মানুষ নয়;ভিনগ্রহের এলিয়েন!

অন্যথায় তাদের আজ খোলা আকাশের নিচে প্রাণীর মত রাত যাপন করতে হত না। কোথায় আজ বিশ্ব মানবতা? রোহিঙ্গাদের জন্য কি মানবতা নামক কিছুই নেই?

বাংলাদেশের কক্সবাজারে আজ হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে পালিয়ে গেছে। তাদের আজ কি অমানবিক অবস্থা!

নাফ নদীর পাড়ে টেকনাফ থানার হ্নীলা স্টেশনের উত্তর পাশে শত শত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু সহ খোলা আকাশের নীচে শীত ও ক্ষুদার জ্বালায় কষ্টে কাতরাচ্ছে কিন্তু কারও কোন খবর নেই। সেই মা বোনদের অার্তনাদ কারো হৃদয়ে পৌঁছতে পারছে না।

এমনকি গত ২৫ তারিখ যে মাকে খোলা আকাশের নিচে তার সন্তান প্রসব করতে হয়েছে তিনি কিন্তু ইতিহাস গড়তে বা স্ম্বরণীয় হয়ে থাকতে এ পরিস্থিতির শিকার হননি। তিনি কোন খবরের শিরোনাম বা আলোচিত হওয়ার জন্য উন্মুক্ত ময়দানে সন্তান প্রসব করেননি। সময় তাকে এমনটা করতে বাধ্য করেছে। পরিস্থিতি তাকে এখানে নিয়ে এসেছে।

আরাকান কিংবা বার্মা এক সময় হয়তো স্বাধীন হবে। রোহিঙ্গারা আবার তাদের অধিকার ফিরে পাবে। নিজেরা নিজেদের মত করেই সব কিছু করবে। কিন্তু আজ যারা পথে ঘাটে, হাটে বাজারে মার খাচ্ছে, জাগায় জাগায় লাঞ্চনার শিকার হচ্ছে, তারা তখন শুধু ইতিহাস হয়ে থাকবে।

তবে আজ যারা মার খাচ্ছে, কাল হয়তো তারাই আবার প্রতিশোধ বা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে অস্ত্র হাতে নেবে। তারা আবার বিশ্ব মানবতার চোখে সন্ত্রাসী হয়ে যাবে না তো!

মানুষ যেখানে চূড়ান্তভাবে আটকে যায় সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। আজ যেসব নির্যাতিত, নিপিড়িত ও অবহেলিত রোহিঙ্গা পরিবারের সন্তানরা জন্ম নিচ্ছে এবং বড় হচ্ছে তারা কিন্তু এসব দেখতে দেখতেই বড় হচ্ছে।

একেই বলে প্রাকৃতিক শিক্ষা। এ শিক্ষা ওদের অন্তরে বসে যাচ্ছে। এটা অমোছনীয় শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। এসব দৃশ্য ওদের সদা সজাগ রাখবে। ওদের অন্তরে একটা চেতনা সৃষ্টি করে তুলবে। যে চেতনায় বলিয়ান হয়ে আমাদের মত বার্মা সরকার থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনবে।
নিজেদের অধিকার আদায় করে নিয়ে আসবে। তখন এসব শিশুরাই হয়ে উঠবে অপ্রতিরুদ্ধ।

আর ওরা স্রষ্টার অনুকম্পা যেমন পাবে তেমনি মানবীয় সমর্থনও পাবে। কারণ ওরা মজলুম-অত্যাচারিত। ওরা নির্যাতিত। ওরা নিপিড়িত! ওদের চোখের সামনেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল ওদের মা-বাবা ও স্বজনদের। ওদের সামনেই জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওদের আবাদ ও আবাসি বাড়ি ঘরগুলো। ওদের চোখের সামনে তখন অতীতের অগ্নিময় স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

======= arakanlive.com ভিজিট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। অনুগ্রহপূর্বক আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আমাদেরকে লিখে জানাবেন। ইমেইল: arakanlive1@gmail.com

LEAVE A REPLY